মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুই যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন করে হামলা জোরদার হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া শহরে শক্তিশালী গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। দুই হামলাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের ইয়ারুন, আরনুন ও বিন্ত জুবাইল এলাকার জলপাই ও পাইনগাছের বাগান লক্ষ্য করে ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং টায়ারের বাইত আল-সাইয়াদ এলাকায় একটি ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ৪০১তম ব্রিগেডের আট মাসব্যাপী অভিযান শেষ হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে হিজবুল্লাহর ১ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনা ধ্বংস, ৬০০টির বেশি অস্ত্র জব্দ এবং ৬০ জনের বেশি সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আটটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। হামলায় ৭১ বছর বয়সী এক নারী নিহত এবং অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। শহরের চারটি জেলায় ২২টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সোভিয়েত আমলের গ্লাইড বোমাগুলো আধুনিক নির্দেশনা প্রযুক্তি সংযুক্ত করে আরও বিধ্বংসী করা হয়েছে। এসব বোমায় কয়েক হাজার কেজি বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব, যা বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।
এ হামলার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ১৮১টি দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। যার অধিকাংশ প্রতিহত করা হলেও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।