টপ নিউজ

সময় ফুরিয়ে আসছে, চুক্তি না করলে ইরানে ভয়াবহ হামলা : ট্রাম্প


ইরানকে নতুন করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিকে আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবহর দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলেও মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চুক্তিতে না এলে পরবর্তী হামলা হবে ‘আগের চেয়েও অনেক ভয়াবহ’— এমন হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বার্তা দেন।

ট্রাম্প লেখেন, ‘একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি দ্রুত, শক্তিশালী ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে’। তিনি বলেন, এই বহর পুরো উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে সামনে এগোচ্ছে।

পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করছেন ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি করবে। তার ভাষায়, ‘কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নয়, এখন দরকার এমন একটি চুক্তি, যা সব পক্ষের জন্য ভালো হবে। সময় ফুরিয়ে আসছে, এখনই সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।’

এর আগে দেয়া সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আমি ইরানকে আগেও বলেছি— চুক্তি করুন।’

এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে একটি সুন্দর আর্মাডা ইরানের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছে। আমি আশা করি তেহরান (সমঝোতার) চুক্তিতে পৌঁছাবে’। তবে ট্রাম্প ঠিক কোন নৌবহরের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি পৌঁছানো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর কথাই তিনি ইঙ্গিত করেছেন।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। আরও ১৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি ট্রাম্প।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’র কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে এবং অস্থিতিশীলতা বাড়াবে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হলে তা শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে।

Previous Post Next Post